
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আলোচিত নেতা মামুনুল হককে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগ, বিতর্কিত বক্তব্য এবং আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, এবং একাধিক মামলার প্রেক্ষাপটে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জনআলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামুনুল হক নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা ও শাইখুল হাদিস আজিজুল হকের ছেলে। তার কর্মজীবনের শুরুতে সিরাজগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সময় তার বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে এবং পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন মামুনুল হক। ওই ঘটনার পর দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে তার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গণতন্ত্র, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণবিরোধী বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এসব বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মামুনুল হক। এরপর সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
২০২১ সালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। ওই ঘটনার পর তার ব্যক্তিগত জীবন ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
পরবর্তীতে শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার বিচারিক কার্যক্রম বিভিন্ন সময়ে চলমান ছিল।